ছবিতে দেখানো হৃৎপিণ্ডটি হচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রাণীর হৃৎপিণ্ড। প্রায় ২০০ কেজি ভরের এই হৃৎপিণ্ডের মালিক হচ্ছে নীল তিমি। জল-স্থল, যে রাজ্যেরই প্রাণীর সাথে তুলনা করতে চান করে নিন, এই নীল তিমি সবার রাজা। “বড় প্রাণীর বড় শরীর, সেই শরীর চালাতে লাগবে বড় হৃৎপিণ্ড” এই নীতি অনুসারেই সাধারণ মানুষের দেহের সমগ্র ভরেরও প্রায় ৪-৫ গুণ ভারী হৃৎপিণ্ড তিমির। ২০১৪ সালে নিউফাউন্ডল্যান্ড (Newfoundland) উপকূলে ২৪-মিটার (৭৮ ফুট) নীল তিমির মৃতদেহ থেকে এই হৃৎপিণ্ডটি আলাদা করা হয়। প্রায় ১০ জন লোকের সহায়তায় তিমি’টির শরীর থেকে আলাদা করা হয় হৃৎপিণ্ডটি এবং পরবর্তীতে ফরমালিন ব্যবহার করে পচনের হাত থেকে রক্ষা করা হয়। বর্তমানে এটি কানাডার রয়েল অন্টারিও যাদুঘরে সংরক্ষিত রয়েছে। বিজ্ঞানীদের মতানুসারে, প্রতি বিটে প্রায় ২২০ লিটার রক্ত পাম্প করে নীল তিমির এই হৃৎপিণ্ডটি। যখন তিমি ডাইভ করে, তখন তার হার্টবিট মাত্র ২ থেকে ১০ বার প্রতি মিনিটে হয়। আর যখন তিমি পানির উপরে থাকে, তখন হার্টবিট হয় ২৫ থেকে ৩৭ বার প্রতি মিনিটে।
স্থলে চড়ে বেড়ানো সবচেয়ে বড় প্রাণীর কথা চিন্তা করলে সেই জায়গাটা দখল করে রেখেছে আফ্রিকান হাতি। এদের হৃৎপিণ্ডের ভর প্রায় সাড়ে তেরো কেজি। কিন্তু শরীরের সাথে তুলনা করলে আসলে আফ্রিকান হাতির হৃৎপিণ্ড আরও বিশাল বড় হওয়া উচিত ছিলো। পাখিদের হৃৎপিণ্ড কিন্তু তাদের আকার কিংবা ভরের তুলনায় বেশিই বড়। স্তন্যপায়ীদের মধ্যে মানুষেরটাও তাদের শরীরের আকারের তুলনায় কম বড় না। হাতিরটা তাহলে ছোটো হয়ে গেলো কেনো? এর কারণ “বিপাকীয় ক্রিয়া (Metabolism rate)। কোনো প্রাণী যত বড় হয় তত দূরে এবং তত বেশি জায়গা জূড়ে রক্ত পাম্প করা প্রয়োজন, এই হিসেবে আমাদের সাধারণ বোধবুদ্ধি বলে “দেহ বড় হলেই মন বড় হবে”, কিন্তু প্রাণীদের বিবর্তনের ধারায় যদি কোনো প্রাণী আকারে বড় হওয়া সত্ত্বেও যদি সে অলস প্রকৃতির হয়, খুব খাটুনিযুক্ত কাজবাজ না করে তবে তাদের বিপাকীয় ক্রিয়া মন্থর হয়। এটাই কারণ হাতির হৃৎপিণ্ড হিসাবের তুলনায় ছোটো হওয়ার এবং পাখির ক্ষেত্রে হিসাবের তুলনায় বড় হওয়ার।
যাহোক, হাতির সাথে তুলনা করলেই বোঝা যায়, নীল তিমির হৃৎপিণ্ড আদতে কত বড়! নীল তিমি প্রায় ১১০ ফুট পর্যন্ত লম্বা হয়; যার ফলে এই বিশাল শরীর পরিচালনার জন্য এত বড় হৃৎপিণ্ডের প্রয়োজন হয়। এদের হৃৎপিণ্ড থেকে উৎপন্ন প্রতিটি হার্টবিট এর শব্দ এতই জোরালো যে, সেটি প্রায় ২ মাইল দূর থেকেও শোনা যায়। বর্তমানে পুরো পৃথিবীতে বেঁচে থাকা নীল তিমির সংখ্যা মাত্র ১০ হাজার থেকে ২৫ হাজারের মধ্যে। তবে আশার কথা হচ্ছে এদের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে।


