ঘুমের মধ্যে খৎনা কীভাবে হয়?

ঘুমের মধ্যে খৎনা কীভাবে হয়?

১.

রহমতপুর গ্রাম। গ্রামের স্কুলের পাশের মাঠে গোল্লাছুট খেলছে আলিফ। বয়স খুব বেশি না, আগামী মাসে ছয় পেরিয়ে সাতে পা দেবে। শৈশবের চাঞ্চল্য তার চোখেমুখে। খেলতে খেলতে কখন যেনো সন্ধ্যা ঘনিয়ে এসেছে। তার দাদা এসে একপ্রকার টানতে টানতে বাড়ি নিয়ে এলো। বাড়িতে গিয়ে হাত মুখ না ধুয়েই দৌড়ে টিভির সামনে বসে পড়লো। মায়ের চিল্লাচিল্লি শুনে উদুম কেলানির ভয়ে পরিচ্ছন্ন হয়ে একটু পড়তে বসলো। সবথেকে বিরক্তিকর কাজ তার জন্য এই পড়াশুনা।

তখন ভোর চারটা। ভয়ানক চিৎকার এবং কান্নার আওয়াজে ঘুম ভাঙলো বাড়ির সবার। প্রচণ্ড ব্যাথায় কাঁদছে আলিফ। নিজের তলপেট চেপে ধরে ব্যাথায় গোঙাচ্ছে সে। কান্নার কারণ জানতে গিয়ে তার দাদা আলিফের প্যান্ট খুলে দেখল আলিফের শিশ্নের অগ্রভাগের চামড়া নেই, অথচ আলিফের তো এখনো খৎনাই করানো হয়নি। রাতারাতি খৎনা কিভাবে হয়ে যেতে পারে? এ তো অসম্ভব। বাড়ির চেঁচামেচির আওয়াজ শুনে পাশের বাড়ির ষাটোর্ধ্ব মহিলা দেখতে এলো কি হয়েছে সেখানে।

ঘটনা শুনে বৃদ্ধা তৎক্ষণাৎ বলে উঠলো, “আরে এইডা ‘পয়গম্বরী খৎনা’, তোমাগো বাড়ির পোলাডা কত ভাইগ্যবান। আল্লার কুদরতে হের খৎনা হ‌ইয়া গেসে গা। এলাকার হক্কলরে মিষ্টি-মুষ্টি খাওয়াইয়ো। খবরটা দিয়া আই হক্কলরে।” সেই ভোরে, সূর্য তখনও প্রকটিত হয়নি, চাঁদের চমকে রাতের আঁধার কিছুটা লোপ পেয়েছে মাত্র, আলিফের পয়গম্বরী খৎনার খবর ঝিঁঝিঁর ডাকের মতো চারদিকে নিমেষেই ছড়িয়ে গেলো। সবাই আলিফকে দেখতে আসছে। পরিবারের লোকজন‌ের মনের ভয়ও কেটে গেছে, সবাই খুব খুশি তাদের ছেলের এই খৎনা নিয়ে।

২.

গ্রাম থেকে কয়েকশ কিলোমিটার দূরে রহমতপুরেরই ছেলে সাজু, ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্র। এখন সে ক্লাসে, প্রফেসরের লেকচার মনোযোগ দিয়ে শুনছে। “শিশ্নের গঠন নিয়ে তোমাদের বেশ কয়েকটা লেকচার দিয়েছি”, মাথা দোলাতে দোলাতে বললেন সেলিম সাহেব। “আজকে আমরা লিঙ্গের ব্যবচ্ছেদ নিয়ে জানবো। সবাই নিজেদের নোট বের করো, শিরোনামে লিখো “ফাইমোসিস (Phimosis) এবং প্যারাফাইমোসিস (Paraphimosis)”।

দীর্ঘ একঘন্টার ক্লাস শেষ হলো, স্যারের বলা প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নোট করেছে সাজু। পরেরদিনই এটার উপর ভাইভা হবে। হলে নিজের রুমে ফিরেই তাই পড়তে বসলো সাজু। অনেকক্ষেত্রেই প্যারাফাইমোসিস আর ফাইমোসিস গুলিয়ে ফেলা হয়। খুব ভালো করে দুইটা বুঝতে হবে তার। সেলিম সাহেব পড়াশুনার ব্যাপারে জল্লাদ মানুষ। ভাইভায় উল্টোপাল্টা কিছু বললেই কচাৎ করে নম্বর কেটে নিবেন উনি।

অনেকের শিশ্নাগ্র ত্বক বা লিঙ্গের অগ্রভাগের চামড়ার (Foreskin/Prepuce) ছিদ্র অনেক ছোট থাকে এতে অগ্রভাগের চামড়াকে লিঙ্গের গোড়ার দিকে টানা সম্ভব হয় না, যার ফলে শিশ্নমুণ্ড (Glans penis) সম্পূর্ণ বের হতে পারে না, লিঙ্গ বা শিশ্নের এই অবস্থাকে ফাইমোসিস বলে।

অথবা আরেকটু সহজ করে বললে সারকামসিশন না করালে যেকোনো স্বাভাবিক পুরুষের পেনিসের অগ্রভাগের চামড়া যে ঢাকা থাকে ওটাকেও ফাইমোসিস বলা যায়।

যেকোনো পুরুষের ক্ষেত্রে উপসর্গ প্রকাশের পূর্ব পর্যন্ত ফাইমোসিস কোনো জটিল সমস্যা নয়। সাধারণত দশ বছরের কম বয়সী শিশু যাদের সারকামসিশন (Circumcision) অর্থাৎ লিঙ্গাগ্রচর্মছেদন বা খৎনা করানো হয়নি তাদের মধ্যে ফাইমোসিসের উপসর্গ বেশি দেখা যায়, শিশুরা ছাড়াও যে প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষদের সারকামসিশন করানো হয়নি তাদের মধ্যেও ফাইমোসিস এর উপসর্গ দেখা যায়। অনেকের প্রস্রাব করার সময় সমস্যা হয়, হাইজেন মেন্টেইন করতে না পারলে মূত্র জমে থেকে মূত্রনালিতে ইনফেকশন হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

ফাইমোসিসের প্রভাবে সাধারণত মূত্র ত্যাগে অথবা যৌন উত্তেজনায় লিঙ্গ উত্থানের ফলেও ব্যথা অনুভূত হয়।

সাধারণত শিশুদের বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে ফাইমোসিসের প্রভাব কমে যায়। তবে যদি না কমে অথবা এর প্রভাব বৃদ্ধি পেলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শে স্টেরয়েড ক্রীম ব্যবহার করে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে লিঙ্গের অগ্রভাগের চামড়া বা ফোরস্কিনের সংকোচন প্রসারণ স্বাভাবিক করা সম্ভব। এছাড়াও ফাইমোসিস প্রভাব থেকে মুক্তির শেষ উপায় হচ্ছে সারকামসিশন বা খৎনা।

ফাইমোসিস আর প্যারাফাইমোসিস কাছাকাছি নাম। প্যারাফাইমোসিস নাম শুনেই হয়তো বুঝতে পারছেন এ সত্যিই লিঙ্গের প্যারাদায়ক এক অবস্থা। এই অবস্থা বোঝার একটু সহজ চেষ্টা করা যায়। ধরুন, রাতের বেলায় আপনি মূত্র ত্যাগ করতে গেলেন, আপনার বয়স বেশি না, সবে পনেরো হলো। আপনার শিশ্নের অগ্রভাগের চামড়া খুব বেশি সংকুচিত করে লিঙ্গের গোড়ার দিকে টানা যায় না, ফাইমোসিস আছে বলা যায়। মূত্র ত্যাগ করতে করতে কৌতূহল বশত আপনার ইচ্ছে হলো অগ্রভাগের চামড়া সরিয়ে সম্পূর্ণ শিশ্নমুণ্ড দেখার। আপনি শিশ্নের চামড়া গোড়ার দিকে টানতে শুরু করলো। অনেকক্ষণ চেষ্টার পরে শিশ্নমুণ্ডের উপরের চামড়া সরাতে সক্ষম হলেন, শিশ্নমুণ্ড উন্মুক্ত এখন।

কিন্তু বিপত্তি বাঁধলো তখন‌ই, তার চামড়া গিয়ে শিশ্নমুণ্ডের নিচের খাঁজ (Neck of Penis) এ আটকে গেছে। কোনোভাবেই সেটাকে টেনে লিঙ্গের অগ্রভাগে নেয়া যাচ্ছে না, আপনি ব্যথা পাচ্ছেন। ঘুমিয়ে গেলে ঠিক হয়ে যাবে এই ভেবে বাড়িতে কিছু না জানিয়ে আপনি ঘুমিয়ে গেলেন। দুদিন কেটে গেলো কিন্তু এখনো চামড়া আগের অবস্থায় ফিরে আসছে না। শিশ্নমুণ্ডের নিচের খাঁজে চামড়া আটকে যাওয়ায় আপনার শিশ্নের অগ্রভাগে রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে শিশ্নমুণ্ড লাল বর্ণ ধারণ করেছে, যদিও অনেকের শিশ্নমুণ্ড নীল বর্ণ‌ও হতে পারে এক্ষেত্রে। সেইসাথে পেনিস নেকে ফোরস্কিন বা অগ্রচর্ম আটকে থাকার ফলে পুঁজ আর পানিতে ফুলে গিয়ে শিশ্নমুণ্ডকে ঘিরে রেখেছে। আপনার শিশ্নের এই প্যারাদায়ক অবস্থা‌-ই মূলত প্যারাফাইমোসিস।

৩.

পাঁচ দিন পর, আলিফের ব্যথা দিন দিন আরো বাড়ছে। তার শিশ্নমুণ্ডের খাঁজের চামড়া ফুলে শিশ্নমুণ্ডকে ঘিরে রেখেছে। শিশ্নমুণ্ড ঈষৎ নীল বর্ণ ধারণ করেছে। চলাফেরা ঠিকমতো করতে পারছে না। পরিবারের সদস্যরা এখন অনেকটাই চিন্তিত। কি করবে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারছে না তারা।

ভাইভা শেষ করে সাজু তার কিছু প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিতে গ্রামের বাড়ি যাচ্ছে। বাড়ি পৌঁছেই শুনতে পেলো আলিফের কথা। পয়গম্বরী খৎনা শুনে তার কিছুটা সন্দেহ হলো বিষয়টা নিয়ে। তাই সে আলিফকে দেখতে তার বাড়িতে গেলো। আলিফের লিঙ্গের অবস্থা দেখেই সাজিকুল বুঝতে পারলো এ কোনো পয়গম্বরী খৎনা নয়, এটা প্যারাফাইমোসিস।

আলিফের পরিবারের লোকজনকে তৎক্ষণাৎ বিষয়টি জানালো সাজিকুল এবং আলিফের ট্রিটমেন্টের জন্য তাকে সাজিকুলের মেডিকেল কলেজে নিয়ে যাওয়া হলো, প্যারাফাইমোসিস রিমুভ করা হবে তার। আলিফের লিঙ্গে বরফ দেয়া হচ্ছে যাতে ব্যথা কম হয়।

এখন আলিফ অপারেশন থিয়েটারের বেডে শুয়ে আছে, সাথে আছে সাজু। সাজুর জেনারেল সার্জারী বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. রোজারিও ট্রিটমেন্ট করবে। প্রফেসর অপারেশন থিয়েটারে প্রবেশ করলেন। আলিফের লিঙ্গ পর্যবেক্ষণ করে দেখলেন এবং সারকামসিশন করার সিদ্ধান্ত নিলেন। প্রফেসর প্রথমেই লিঙ্গের গোড়ার দিকে ব্যথানাশক ইনজেকশন পুশ করলো, আলিফের এখন কোনোধরণের ব্যথা অনুভূত হচ্ছে না।

এরপর পেনিস নেকে পুঁজ আর তরলের কারণে ফুলে থাকা ফোরস্কিনে কয়েকটি ছিদ্র করা হলো। এরপর হাত দিয়ে সেই ফোরস্কিনে মৃদুভাবে চাপ দিচ্ছে যাতে তরল পদার্থ সেই ছিদ্র দিয়ে বের হয়ে যেতে পারে। কয়েক মিনিটের মধ্যে ফুলে থাকা ফোরস্কিনের সব তরল পদার্থ বের করে দিলো। এবার ফোরস্কিনকে আলতো করে ধরে লিঙ্গের অগ্রভাগে আনার চেষ্টা করলেন। ধীরে ধীরে পুরো ফোরস্কিন লিঙ্গের অগ্রভাগে এনে ফেললেন, শিশ্নমুণ্ড ফোরস্কিনের ভিতরে এখন।

সারকামসিশন করার জন্য ফোরস্কিনকে টেনে আরো কিছুটা প্রসারিত করা হলো। এরপর ক্যাটগাট (Catgut) অর্থাৎ সার্জিক্যাল সুতো দিয়ে প্রসারিত ফোরস্কিনকে বেশ শক্ত করে বেঁধে ফেললো। এখন সারকামসিশন স্ট্যাপলারের (Circumcision Stapler) মধ্যে লিঙ্গের শিশ্নমুণ্ড পর্যন্ত প্রবেশ করানোর পর প্রফেসর রোজারিও স্ট্যাপলারের ট্রিগারের প্রেশার দিলেন এবং একটু একটু করে স্ট্যাপলারটিকে পুরো শিশ্নমুণ্ডের চারিদিকে ঘুরালেন যার ফলে একসাথে ফোরস্কিন কাটার সাথে সাথে সেলাইও হয়ে যাচ্ছে। সারকামসিশন কমপ্লিট। অধ্যাপক পেনিসে ব্যান্ডেজ করলেন। প্রফেসর রোজারিও আলিফকে ঘুমের ইনজেকশন দিয়েছে এখন, তাই আলিফ এখন ঘুমাচ্ছে।

৪.

এবার গল্প রেখে একটু পুঁথিগত আলাপ করা যাক। যাদের সারকামসিশন বা খৎনা করানো হয়নি তাদের মধ্যেই প্যারাফাইমোসিস দেখা যায়। তবে এর মানে এই নয় যে যাদের সারকামসিশন করানো হয়নি তাদের সবার‌ই প্যারাফাইমোসিস হয়।

→ কেউ যদি নিজের লিঙ্গের অগ্রভাগের চামড়া বা ফোরস্কিনকে লিঙ্গের গোড়ার দিকে অতিরিক্ত টেনে নিয়ে আসে এবং ফোরস্কিন যদি পেনিস নেকে আটকে যায় তাহলে প্যারাফাইমোসিস সৃষ্টি হতে পারে। অনেকক্ষেত্রে সেক্স করার সময়‌ও ফোরস্কিন শিশ্নমুণ্ড থেকে সরে গিয়ে পেনিস নেকে আটকে যেতে পারে।

→ লিঙ্গ বা পেনিসের ভিতরে অংশ নিয়মিত পরিষ্কার করা না হলে সেখানে ইনফেকশন হয়ে ফোরস্কিন ফুলে গিয়ে প্যারাফাইমোসিস হতে পারে। এছাড়াও বাহ্যিক কোনো কারণে লিঙ্গে আঘাত পেলে অথবা লিঙ্গে কীটপতঙ্গের কামড়ের ফলে ফোরস্কিন ফুলে গিয়ে প্যারাফাইমোসিস সৃষ্টি করতে পারে।

→ অনেকক্ষেত্রে ডায়বেটিসের ফলে পেনিস ও ফোরস্কিনে দীর্ঘস্থায়ী কিছু সমস্যার সৃষ্টি হয় যার মধ্যে প্যারাফাইমোসিস অন্তুর্ভুক্ত

→ সারকামসিশন বা খৎনা নিয়ম অনুযায়ী করা না হলেও ফাইমোসিস হতে পারে। সাধারণত গ্রামাঞ্চলে গণি দিয়ে খৎনা করানো হয়। যারা সারকামসিশন করানোর সময় ফোরস্কিন কেটে ফেলে দিয়ে ত্বকে কোনো ধরণের সেলাই করা ছাড়াই পোড়া কাপড়কে ব্যান্ডেজ হিসেবে ব্যবহার করে। অনেক শক্ত করে পোড়া কাপড় পেনিসের মধ্যে পেঁচিয়ে রাখার ফলে পেনিস নেকে পুঁজ ও তরলের থলি সৃষ্টি করে। এই অবস্থাকে পোস্ট সারকামসিশন প্যারাফাইমোসিস বলা যায়। অর্থ্যাৎ সারকামসিশন করানোর পরেও সঠিক চিকিৎসার অভাবে প্যারাফাইমোসিস হতে পারে।

উপর্যুক্ত এই কারণগুলোর কোনো একটার ফলেই একজন ব্যক্তির প্যারাফাইমোসিস হতে পারে। এবার যাদের সারকামসিশন করানো হয়নি তারা প্যারাফাইমোসিস কিভাবে প্রতিরোধ করবেন তার কিছু উপায় বলা যাক। প্রথমত, মূত্র ত্যাগের পর পেনিস ভালোভাবে ধৌত করতে হবে, যাতে মূত্র জমে না থাকে। অন্যথায় ইনফেকশন হতে পারে। দ্বিতীয়ত, যৌন মিলনের সময় পেনিসের ফোরস্কিন যাতে গ্ল্যান্স পেনিস বা শিশ্নমুণ্ডের নিচে নামা না সেদিকে খেয়াল রাখা। তৃতীয়ত, দীর্ঘ সময় ধরে ফোরস্কিনকে লিঙ্গের গোড়ার দিকে নিয়ে রাখা যাবে না। অনেক সময় পেনিসের বিভিন্ন ক্লিনিকাল টেস্টের জন্য ফোরস্কিন লিঙ্গের গোড়ার দিকে নেয়া হয়, তো সেইক্ষেত্রে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে যে টেস্টে করা শেষ হলে ফোরস্কিনকে যেনো আবার স্বাভাবিক অবস্থায় আনা হয়।

এবার প্রাসঙ্গিক কিছু আলোচনা করা যাক। আলিফকে যদি আরো ক্লিনিকাল ট্রিটমেন্ট না করা হতো তাহলে কি ঘটতো? প্যারাফাইমোসিস কি আপনা আপনি কমে যেতো? উত্তর হলো না। প্যারাফাইমোসিসে ফোরস্কিনের চাপে রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে নেক্রোসিস(Necrosis) হয়ে যেতে পারে, খাঁটি বাংলায় শিশ্নে পচন ধরতে পারে। এটা নির্ভর করে ব্যক্তির ফোরস্কিন কতটা শক্ত/টাইট তার উপর। আলিফ শিশু হ‌ওয়ায় তার ফোরস্কিন প্রাপ্তবয়স্কদের মতো হয়নি সেই জন্য নেক্রোসিস হ‌ওয়ার সম্ভাবনা কম ছিলো। তবে প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিদের প্যারাফাইমেসিস হলে এবং দ্রুত ক্লিনিকাল ট্রিটমেন্ট না করালে লিঙ্গে পচন ধরে যেতে পারে। তখন সারকামসিশন করেও লাভ হবে না। পেনিস নির্দিষ্ট অংশ কেটে ফেলতে হবে যাতে তা সম্পূর্ণ পেনিসে না ছড়ায়।

৫.

নিঝুম রাত, বাইরে ঝিঁঝিঁ পোকার আওয়াজ শোনা যাচ্ছে। আলিফের বাড়ির সবাই ঘুমাচ্ছে, আলিফের দুইপাশে তার দাদা-দাদীও ঘুমাচ্ছে। আলিফের ঘুম আসছে না, ছটফট করছে। মাঝে মধ্যে আলিফ তার শিশ্নের অগ্রচর্ম বা ফোরস্কিনকে গোড়ার দিকে নেয়ার চেষ্টা করছে। ফোরস্কিন টেনে শিশ্নমুণ্ডের মাঝামাঝি পর্যন্ত নিতে পেরেছে, এর বেশি নেয়ার চেষ্টা করতেই ব্যথা পাচ্ছে। এরকম কয়েকবার চেষ্টা করতে করতে সে ঘুমিয়ে পড়লো।

ঘুমানোর পরেও সে এপাশ ওপাশ করছে, বেশ ছটফট করছে ঘুমের মধ্যেই। আলিফ ঘুমানোর আগে তার ফোরস্কিন লিঙ্গের অগ্রভাগে আনতে ভুলে যায়, তার ফোরস্কিন শিশ্নমুণ্ডের মাঝামাঝি জায়গায় আছে এখন। ঘুমের মধ্যে বেশি ছটফট করার ফলে প্যান্টের সাথে লিঙ্গের ফোরস্কিনের বেশ ভালো মতোই ঘর্ষণ হয় এতে তার ফোরস্কিন শিশ্নমুণ্ড পেরিয়ে পেনিসের নেকে আটকে যায়। এটাই ঘটেছিলো সেই রাতে আলিফের সাথে।

সাধারণত খৎনা করা অবস্থায় যেমন ফোরস্কিন থাকে না এবং শিশ্নমুণ্ড উন্মুক্ত থাকে তেমনি এইক্ষেত্রেও অগ্রচর্ম পেনিস নেকে আটকে থাকায় শিশ্নমুণ্ড উন্মুক্ত হয়ে যায়। যার ফলে সেই ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধা ও পরিবারের সবাই ভাবে কোনো অলৌকিক সত্ত্বা রাতারাতি খৎনা করিয়েছে। যাকে পয়গম্ভরী খৎনা নামে ডাকা হচ্ছে। এভাবেই অলৌকিকতরা পোশাক পরিয়ে বহু ঘটনাকে আমাদের গ্রামবাংলায় জনপ্রিয় করা হয়। কোনো ঘটনাকে অলৌকিক বলার আগে ঘটনাকে ভালো ভাবে পর্যবেক্ষণ করুন, চিন্তা করুন, জানুন। অলৌকিকতার প্রধান শত্রু আপনার জ্ঞান।

Leave a Comment

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *