শুনতে কুৎসিত বা সামান্য কিন্তু জনপ্রিয় জিজ্ঞাসা রয়েছে পুরুষের গোপনাঙ্গ নিয়ে। শুধু যে জিজ্ঞাসা রয়েছে এমন না, প্রচুর মিমও তৈরী হয় নিয়মিত। যৌনশিক্ষার অভাব মানুষকে কতটা অন্ধকারাচ্ছন্ন করে রাখতে পারে সেটার এক ঝলক আমরা সেক্স এডুকেশনের গতপর্বেই দেখেছি। আজকের পর্বে আমরা পুরুষ সম্পর্কিত একটা বিষয় আলোচনা করবো। সাম্প্রতিক সময়ে বিষয়টা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ আলোচিতও বটে। ধরুন আপনি একজন পুরুষ। সারাদিনের ক্লান্তি শেষে রাতে শান্তির ঘুম দিলেন, সকাল উঠে দেখলেন আপনার পুরুষাঙ্গ শক্ত হয়ে গেছে, ঠিক যেমন হয় যৌনমিলনের সময়। এটাকে সাহেবি ভাষায় বলা হয়, “Morning Wood” কিংবা “Nocturnal penile tumescence (NPT), এমনটা হরহামেশাই কিংবা রোজ রোজও হতে পারে। অনেকেই ভেবে থাকে এমনটা হওয়ার কারণ শুধুমাত্র রাতে উল্টাপাল্টা চিন্তা করে ঘুমানো, পর্ণ দেখা কিংবা স্বপ্নে যৌনমিলনের কোনো দৃশ্য দেখা। কিন্তু আসল সত্য এমন নয় মোটেও।
সাজ সকালের এই বিব্রতকর পরিস্থিতির প্রথম কারণ REM তথা অনবরত চোখের নড়নচড়ন। এই REM সাধারণত তখন ঘটে যখন আমরা স্বপ্ন দেখি, যেকোনো ধরণের স্বপ্ন। এইসময়ে আমাদের দেহ ঘুমালেও আমাদের মস্তিস্ক সম্পূর্ণ সজাগ থাকে। এসময় আমাদের শরীর সম্পূর্ণ নিথর থাকে অর্থাৎ যা ঘটবে স্বপ্নে ঘটবে, বাস্তবে হাত-পায়ের কোনো চলন থাকবে না। অর্থাৎ মস্তিষ্ক ফুল গিয়ারে (Gear) চললেও শরীর একদম পজ (Pause) থাকবে। মস্তিষ্ক সচল থাকায় পুরুষাঙ্গ উত্তেজিত হওয়ার জন্য দায়ী স্নায়ুও কোনোরকম যৌন কর্মকাণ্ড ছাড়াই উত্তেজিত হতে পারে। ফলে পুরুষাঙ্গে রক্ত সঞ্চালন খুব ভালোভাবেই সচল থাকে, টিস্যুগুলো পূর্ণ আকার পায় এবং পুরুষাঙ্গ শক্ত হয়ে যায়। এছাড়াও ঘুমের শেষের দিকে যখন REM পর্যায় তুঙ্গে থাকে তখন শরীরের টেস্টোস্টেরনের মাত্রাও অনেক বৃদ্ধি পায়।
REM পর্যায়ে পুরুষাঙ্গে রক্ত প্রবাহের জন্য কিছু নিউরোট্রান্সমিটার দায়ী বলে ধারণা করা হয়। যেমন: নাইট্রিক অক্সাইড। এটা দিনের যেকোনো সময়েই উত্তেজনার পিছনে ভূমিকা রাখে। পুরুষাঙ্গে থাকা স্নায়ুর শেষপ্রান্ত হতে নিঃসৃত হয় এবং পুরুষাঙ্গের টিস্যুকে “রিলাক্স” করে। এই রিলাক্সই সেই ধাপ যেখানে রক্তের প্রবাহ টিস্যুতে পৌছায়। এরপর আসে অ্যাসিটাইলকোলিন এবং আমাদের সবার প্রিয় ডোপামিন। এতসময় যে বললাম পুরুষাঙ্গ উত্তেজিত মানে স্বপ্নে যৌনাচার সম্পর্কিত কিছু দেখেছেন এটা আবশ্যক নয়। যদি স্বপ্নে যৌনাচার সম্পর্কিত কিছু দেখেন তাহলে? সেক্ষেত্রেও পুরুষাঙ্গ উত্তেজিত হবে কিন্তু সেটার পিছনে প্রধান ভূমিকা পালন করবে এই ডোপামিন, এটা নাইট্রিক অক্সাইড কিংবা টেস্টোস্টেরনের প্রভাবকে কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেয়।
ইশ্চিওক্যাভার্নোসাস (Ischiocavernosus) এবং বুলবোস্পঞ্জিয়াস (bulbospongiosus) এই দুই পেশী পুরুষাঙ্গকে শক্ত এবং বড় করার জন্য দায়ী। হরমোনের প্রভাবে হোক কিংবা REM পর্যায়ের কোনো কিছুর কারণে হোক, এখানে রক্ত চলাচল ঠিক মতো হলেই পুরুষাঙ্গ নিজের সর্বোত্তম রূপে চলে আসবে। রক্তপ্রবাহ না শেষ হওয়া পর্যন্ত আপনাকে এমন পরিস্থিতিতেই রাখবে। এই যে সাজ-সকালে আপনি এমন পরিস্থিতির শিকার হয়ে কিছুটা বিরক্তির সাথে বলে উঠছেন, “ধুর ছাতা, রোজ রোজ এই জিনিস ভালো লাগেনা”, আপনি জানলে খুশি হবেন এই ঘটনা আপনার সুস্বাস্থ্য নির্দেশ করে। পুরুষাঙ্গের এই উত্তেজিত অবস্থা নিয়মিত হওয়ার অর্থ,
১। আপনি মানসিকভাবে সুখী
২। আপনার প্রজনন অঙ্গ সক্রিয় এবং সবল
৩। হরমোনের মাত্রা, স্নায়ুর উত্তেজনা, উক্ত অঙ্গের টিস্যুর কার্যক্রিয়া ঠিকঠাক
তাই এমন ঘটনায় লজ্জিত বা বিব্রত না হয়ে খুশি হন। আর এমন বিব্রতকর ঘটনা আপনার সাথে না ঘটলে একটু সতর্ক হন, নিজেকে মেইনটেইন করে চলুন। অস্বাভাবিক কোনোকিছু লক্ষ্য করলে যৌনবিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। তবে বয়সের সাথে সাথে আস্তে আস্তে অঙ্গে রক্তপ্রবাহ কমে, যৌবনের দিনগুলোর মতো এত সক্রিয় থাকেনা পেশি। যাহোক, এতটুকু আলোচনা এবং তথ্যই আশা করি যথেষ্ট আপনাদের পুরুষদের মনে জন্মানো বিব্রতকে দূর করে সত্যটা মেনে নেওয়ার জন্য। যত জানবেন, জীবন তত সুন্দর ও রঙিন হবে। সেক্স এডুকেশনের প্রথম পর্ব পড়তে ক্লিক করুন এখানে।


