মানুষের মতো গরুর বাচ্চা কীভাবে?

মানুষের মতো গরুর বাচ্চা কীভাবে?

দেখতে প্রায় মানুষের মতো আকৃতির অদ্ভুত এক গরুর বাছুর এর জন্ম!


আজকে সন্ধ্যার পরে সিলেটের শাহপরান খাদিমপাড়া এলাকার ৪ নং ওয়ার্ড দাস পাড়া বংশীধর নামক জায়গায় দেখতে প্রায় মানুষের মতো আকৃতির একটি গরুর বাছুরের জন্ম হয়েছে। অনেকের মনেই প্রশ্ন এমনটা কীভাবে সম্ভব হয়েছে? আবার, এলাকা কিংবা নেট জগতের অনেকে মন্তব্য করলেন হয়তো গাভীর সাথে কোন মানুষের ব্যভিচারের কারণে এমনটা হয়েছে। চলুন একটু বস্তুনিষ্ঠ আলাপ করি এটা নিয়ে। এখানে দুইটা বিষয় নিয়ে বলতে হয়।


প্রথমত, মানুষ এবং গরুর মিলনে বাচ্চা হওয়া সম্ভব নয়। এটি জেনেটিক্যালি অসম্ভব, কারণ মানুষের এবং গরুর ডিএনএ (DNA) বা জেনেটিক কোড সম্পূর্ণ ভিন্ন। দুটি প্রজাতির মধ্যে বংশবৃদ্ধি করতে হলে তাদের জেনেটিক কাঠামো অনেকটাই মিলতে হয়, যা মানুষ এবং গরুর মধ্যে নেই। তাছাড়া মানুষের ২৩ জোড়া ক্রোমোজোম রয়েছে, অর্থাৎ মোট ৪৬টি। অন্যদিকে, গরুর ৩০ জোড়া ক্রোমোজোম রয়েছে, অর্থাৎ মোট ৬০টি ক্রোমোজোম। এই ক্রোমোজোম সংখ্যা ও জেনেটিক পার্থক্যের কারণেই মানুষ ও গরুর মধ্যে প্রজনন অসম্ভব। কাছাকাছি গণ বা প্রজাতির প্রাণী হলে অনেকসময় নিষেক ঘটলেও মৃত বাচ্চার জন্ম হয়, তবে গরু এবং মানুষের অবস্থান বিবর্তনের দিক দিয়ে অনেক দূরে। তাই নিষেকই সম্ভব নয়।


দ্বিতীয়ত, মৃত বাচ্চাটিকে দেখতে এরকম অদ্ভুত হওয়ার কারণ হলো জেনেটিক মিউটেশন। সকল স্তন্যপায়ীর ভ্রুণ দেখতে প্রায় একই রকম। মজার বিষয় হলো, স্তন্যপায়ী ছাড়াও যদি আমরা পাঁচটা শ্রেণী (মাছ, সরিসৃপ, উভচর, স্তন্যপায়ী, পাখি) সবার ভ্রূণ মিলিয়ে দেখি অদ্ভুতভাবে এদের মধ্যে সদৃশতা লক্ষ্য করা যায়।যেহেতু গরু আর মানুষ স্তন্যপায়ী শ্রেণিরই তাই ভ্রূণাবস্থায় এদের অনেক মিল থাকবে এটাই জীববিজ্ঞান আমাদের শিখায়। আরেকটা কথা মায়ের পেটে সব প্রানীরই কিন্তু লেজ থাকে। তো গর্ভাবস্থায় পুষ্টি অথবা পরিবেশগত কারণে কিংবা নিষেকের সময় মিউটেশন এর কারণে কোনো বিকলাঙ্গতা’র সৃষ্টি হলে, অকালপক্ব বাচ্চা জন্ম হলে এমন সদৃশ দেখা যেতেই পারে, অসম্ভব তো না। প্রয়োজনীয় গ্রোথ হরমোন, ফরফরাস, ম্যাগনিয়াম,ক্যালসিয়াম আয়নের অভাবজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে বাচ্চাটির শারীরিক বিকাশ অসম্পূর্ণই থেকে গিয়েছে। এটি আবার কখনো কখনো পশুর ভাইরাল বা ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণের কারণেও হতে পারে, যেমন বোভাইন ভাইরাল ডায়রিয়া ভাইরাস (BVDV) যা গরুর ভ্রূণে সমস্যা তৈরি করতে পারে। মানুষের যেমন প্রি ম্যাচিউর বিকলাঙ্গ বাচ্চা হয় এটার ক্ষেত্রেও ঠিক তেমন হয়েছে।

তাই না জেনে অযথা কোনো গুজব ছড়ানোর দরকার নেই। ধন্যবাদ।

Leave a Comment

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *